ট্রেডিং শুরু করার পর একজন নতুন ট্রেডারের সবচেয়ে স্বাভাবিক প্রশ্ন হলো, “কত দিনে আমি নিয়মিত লাভ করতে পারব?”
প্রশ্নটি অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে আমেরিকায় বসবাসরত একজন মানুষের জীবনে সময়ের মূল্য অনেক। চাকরি, ব্যবসা, পরিবার, মর্টগেজ, বিল, সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং নিজের অবসর জীবনের পরিকল্পনার মাঝখানে সময় বের করে যখন কেউ স্টক মার্কেট শেখার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি স্বাভাবিকভাবেই জানতে চান, এই শেখার ফল কবে পাওয়া যাবে।
কিন্তু ট্রেডিংয়ের শুরুতে সম্ভবত এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন আছে। “প্রথম ৬ মাসে আমি কত টাকা আয় করব?” নয়, বরং “প্রথম ৬ মাসে আমি কেমন ট্রেডার হয়ে উঠব?”
দুটি প্রশ্নের পার্থক্য খুব সামান্য মনে হতে পারে। কিন্তু প্রথম প্রশ্নটি আপনাকে দ্রুত লাভের পেছনে ছোটাবে, আর দ্বিতীয়টি আপনাকে দক্ষতা তৈরির দিকে নিয়ে যাবে।
ট্রেডিং অনেকটা গাড়ি চালানো শেখার মতো। ট্রাফিকের নিয়ম মুখস্থ করা আর ব্যস্ত হাইওয়েতে শান্ত মাথায় গাড়ি চালাতে পারা এক বিষয় নয়, একইভাবে চার্ট সম্পর্কে জানা আর নিজের টাকা ঝুঁকিতে থাকা অবস্থায় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারাও এক বিষয় নয়। এই কারণেই একজন নতুন ট্রেডারের প্রথম ৬ মাসকে লাভের পরীক্ষা হিসেবে না দেখে নিজেকে তৈরি করার সময় হিসেবে দেখা ভালো।
প্রথম মাস: আগে মার্কেটের ল্যাংগুয়েজ বুঝুন
নতুন কোনো দেশে গেলে সেখানকার ভাষা না বুঝে মানুষের কথোপকথনের গভীরতা বোঝা কঠিন। স্টক মার্কেটেরও নিজের একটি ভাষা আছে।
প্রথম মাসে আপনার প্রধান কাজ হওয়া উচিত সেই ভাষার সঙ্গে পরিচিত হওয়া, শেয়ার কীভাবে কেনাবেচা হয়, মার্কেট অর্ডার ও লিমিট অর্ডারের মধ্যে পার্থক্য কী, বিড এবং আস্ক কী বোঝায়, ভলিউম কেন গুরুত্বপূর্ণ, ক্যান্ডেল কী তথ্য দেয়, ট্রেন্ড কীভাবে তৈরি হয়, সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্সের অর্থ কী, এসব মৌলিক বিষয় ধীরে ধীরে পরিষ্কার করুন।
এখানেই নতুন ট্রেডারদের একটি পরিচিত ভুল দেখা যায়। চার্টে যত বেশি ইন্ডিকেটর যোগ করা যায়, মনে হয় তত বেশি তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, একসময় চার্টে এত রং দেখা যায় যে মার্কেটের চেয়ে ইন্ডিকেটরই বেশি চোখে পড়ে, শুরুতে আপনার বিশটি ইন্ডিকেটরের প্রয়োজন নেই। আপনার প্রয়োজন একটি পরিষ্কার চার্ট দেখে মার্কেটের আচরণ বুঝতে শেখা। চার্টে বেশি কিছু দেখা আর মার্কেটকে বোঝা এক কথা নয়।
প্রথম মাস শেষে আপনার লক্ষ্য আগামীকাল দাম কোথায় যাবে সেটি বলে দেওয়া নয়। বরং একটি চার্ট দেখে বোঝার চেষ্টা করা, মার্কেট এখন ঊর্ধ্বমুখী, নিম্নমুখী নাকি একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ঘুরছে। কোন জায়গায় ক্রেতা সক্রিয় হতে পারে, কোথায় বিক্রেতার চাপ দেখা যাচ্ছে, সেগুলো চিনতে শুরু করাই যথেষ্ট। এই সাধারণ দক্ষতার ওপরই পরবর্তী শেখাগুলো দাঁড়াবে।
দ্বিতীয় মাস: সবকিছু শেখার চেষ্টা না করে একটি পদ্ধতিকে সময় দিন
ইন্টারনেট নতুন ট্রেডারের জন্য আশীর্বাদও, আবার বিভ্রান্তির বড় উৎসও। আজ আপনি ব্রেকআউট নিয়ে একটি ভিডিও দেখলেন, কাল কেউ মুভিং অ্যাভারেজ দেখালেন, তার পরের দিন এমন একটি ইন্ডিকেটর দেখলেন, যেটি দেখে মনে হলো এতদিন বুঝি মার্কেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রহস্যটাই জানা ছিল না, এভাবে কয়েক মাস চলার পর দেখা যায়, একজন নতুন ট্রেডার অনেক কিছুর নাম জানেন, কিন্তু কোনো একটি পদ্ধতির ওপর গভীর বোঝাপড়া তৈরি হয়নি।
তাই দ্বিতীয় মাসে শেখার পরিমাণ বাড়ানোর বদলে শেখার ক্ষেত্র ছোট করুন, একটি নির্দিষ্ট সেটআপ বেছে নিন, হতে পারে ব্রেকআউট, পুলব্যাক অথবা সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স নির্ভর কোনো পদ্ধতি, তারপর পুরোনো চার্টে বারবার সেই পরিস্থিতি খুঁজুন।
দেখুন সেটআপটি কোথায় ভালো কাজ করেছে। কোথায় ব্যর্থ হয়েছে। সফল এবং ব্যর্থ উদাহরণের মধ্যে কোনো পার্থক্য চোখে পড়ে কি না। ভলিউম কেমন ছিল। প্রবেশের যুক্তিসঙ্গত জায়গা কোথায় ছিল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, কোন জায়গায় গেলে আপনার ধারণাটি ভুল প্রমাণিত হতো।
এখানে আপনার চিন্তার একটি পরিবর্তন শুরু হবে, আপনি আর শুধু “কোথায় কিনব?” শিখছেন না, আপনি শিখছেন “কোন পরিস্থিতিতে আমার কেনার যুক্তিটাই ঠিক নয়?
এই প্রশ্নটি একজন শিক্ষার্থীকে ধীরে ধীরে ট্রেডারের মতো চিন্তা করতে শেখায়।
তৃতীয় মাস: লাভের আগে ক্ষতির হিসাব শিখুন
একটি সম্ভাব্য ট্রেড দেখলে নতুন ট্রেডারের চোখ স্বাভাবিকভাবেই প্রথমে লাভের দিকে যায়, এখান থেকে ওখানে গেলে কত লাভ হবে, কিন্তু অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্নটি একটু বদলে যায় – আমি ভুল হলে কখন বুঝব যে আমি ভুল? এই প্রশ্নের মধ্যেই রিস্ক ম্যানেজমেন্টের শুরু।
পৃথিবীর কোনো ট্রেডিং পদ্ধতি প্রতিটি ট্রেডে সঠিক হয় না। একটি সুন্দর সেটআপও ব্যর্থ হতে পারে। আপনার বিশ্লেষণ যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত হওয়ার পরও মার্কেট বিপরীত দিকে যেতে পারে, তাই একটি ট্রেড নেওয়ার আগেই জানা প্রয়োজন, কোথায় কিনবেন, প্রাইস কোথায় গেলে বুঝবেন আপনার প্রেডিকশন ভুল ছিলো এবং সেটাতে সর্বোচ্চ কতটা রিস্ক নিবেন এবং সম্ভাব্য প্রফিটের তুলনায় সেই রিস্ক গ্রহণ করা যৌক্তিক কি না।
নতুন ট্রেডার প্রায়ই মনে করেন, ভালো ট্রেডার মানে যিনি অধিকাংশ ট্রেড উইন করেন, বাস্তবতা কিন্তু সেরকম নয়,
ভালো ট্রেডার শুধু উইন করতে জানেন না, ভুল হলে কম লস নিয়ে বেরিয়ে আসতেও জানেন।
মার্কেটে প্রতিটি অপরচুনিটি ক্যাচ করতে হবে না,বরং একটি ভুল সিদ্ধান্ত যেন আপনার পোর্টফোলিওর বড় অংশ নষ্ট না করে, সেই ডিসিপ্লিন তৈরি করা প্রয়োজন, কারণ মার্কেটে টিকে থাকাটাও একটি দক্ষতা।
চতুর্থ মাস: পেপার ট্রেডিংকে পরীক্ষাগার বানান
এখন পর্যন্ত যা শিখেছেন, সেগুলো কোনো আর্থিক ঝুঁকি ছাড়াই পরীক্ষা করার সময় এসেছে, পেপার ট্রেডিং বা সিমুলেটেড ট্রেডিং এখানে কাজে আসতে পারে, তবে এর উদ্দেশ্য ভার্চুয়াল হিসাবে বিশাল লাভ দেখিয়ে নিজেকে সফল ট্রেডার ভাবা নয়, এর আসল উদ্দেশ্য হলো আপনার ডিসিশন নেওয়ার প্রক্রিয়াটি পরীক্ষা করা।
প্রতিটি ট্রেডের আগে নিজের কাছে পরিষ্কার করুন, কেন ট্রেডটি নিচ্ছেন, কোন শর্তটি আপনার ট্রেডে এন্ট্রির কারণ? প্রাইস কোথায় গেলে আপনার প্রেডিকশনটি ভুল প্রমানিত হবে? কোথায় প্রফিট নেওয়ার পরিকল্পনা আছে? কোন পরিস্থিতিতে ট্রেডটি একেবারেই নেওয়া উচিত নয়?
তারপর ট্রেড শেষ হলে শুধু কত লাভ বা ক্ষতি হয়েছে সেটি দেখবেন না, দেখুন আপনি নিজের নিয়ম মেনেছিলেন কি না, কারণ ট্রেডিংয়ে একটি অদ্ভুত বিষয় ঘটে, আপনি নিয়ম ভেঙে একটি ট্রেডে লাভ করতে পারেন, আবার সব নিয়ম মেনে একটি ট্রেডে লসও হতে পারে।
প্রথমটি আপনার হিসাবে প্রফিট যোগ করলেও একটি খারাপ অভ্যাস তৈরি হবে, দ্বিতীয়টিতে লস হলেও একটি ভালো সিদ্ধান্ত গ্রহণের অভ্যাস তৈরি হবে, প্রতিটি প্রফিট ভালো ডিসিশনের প্রমাণ নয় আবার প্রতিটি লসও খারাপ ডিসিশনের প্রমাণ নয়, এই পার্থক্যটি যেদিন পরিষ্কার হবে, সেদিন থেকে আপনি শুধু ফলাফল নয়, নিজের সিদ্ধান্তের মানও বিচার করতে শুরু করবেন।
পঞ্চম মাস: অল্প রিস্ক নিয়ে নিজের আসল অবস্থান বুঝুন
পেপার ট্রেডিংয়ে নার্ভ কন্ট্রোল করা তুলনামূলক সহজ, কিন্তু আসল মানি যুক্ত হওয়ার পর একই চার্টকে অনেক সময় অন্যরকম মনে হয়। প্রাইস সামান্য নিচে গেলেই মনে হতে পারে আরেকটু অপেক্ষা করি ফিরে আসবে, আবার সামান্য প্রফিট হলেই মনে হয় এখনই সেল করে দিই , পরে যদি প্রফিট না নিতে পারি, আবার একটি লসের পর পরবর্তী ট্রেডে দ্রুত সেই টাকা ফেরত পুনরুদ্ধার করার (রিভেন্জ ট্রেডিং) ইচ্ছাও তৈরি হতে পারে।
এখানে চার্ট বদলায়নি, বদলে গেছে আপনার অনুভূতি, এই কারণেই রিয়েল মানি দিয়ে শুরু করলে পজিশনের আকার এমন রাখা প্রয়োজন, যাতে একটি লস আপনার স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি কেড়ে না নেয়।
এই মাসে আপনার প্রধান লক্ষ্য বড় প্রফিট নয়, নিজের আচরণ পর্যবেক্ষণ করা, আপনি কি সুযোগ হারানোর ভয়ে পরিকল্পনা ট্রেডে এন্ট্রি নেন? লস মেনে নিতে না পেরে স্টপলস মুভ করেন? প্রফিটের ট্রেড দ্রুত সেল করেন কিন্তু লস ট্রেড হোল্ড করেন? একটি লসের পর পরিকল্পনার বাইরে আরেকটি ট্রেড নিয়ে ফেলেন?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর অন্য কেউ আপনার হয়ে দিতে পারবে না।, চার্ট আপনার কৌশল দেখায়, রিয়েল মানি আপনার দুর্বল জায়গাগুলো দেখিয়ে দেয়, তাই পঞ্চম মাসে আপনি শুধু মার্কেট সম্পর্কে শিখছেন না। মার্কেটের সামনে দাঁড়ানো নিজের সম্পর্কেও শিখছেন।
ষষ্ঠ মাস: এবার নিজের তথ্য দিয়ে নিজেকে বিচার করুন
ছয় মাস শেষে একটি দিন সময় নিয়ে আপনার ট্রেডিং জার্নাল খুলে বসুন, শুধু মোট প্রফিট বা লসের সংখ্যাটি দেখবেন না, আপনার শেষ কয়েক ডজন ট্রেড দেখুন। কোন ধরনের সেটআপে আপনার সিদ্ধান্ত তুলনামূলক ভালো হয়েছে? কোন ভুলটি বারবার করছেন? কোন পরিস্থিতিতে আপনি নিয়ম ভাঙছেন? নিয়ম মেনে নেওয়া ট্রেডগুলোর ফলাফল কেমন? আপনার প্রফিটের ট্রেডের তুলনায় লসের ট্রেডগুলোর আকার কেমন?
এবার আপনি এমন কিছু দেখতে শুরু করবেন, যা কোনো বই বা ভিডিও আপনাকে সরাসরি দেখাতে পারবে না, কারণ এই তথ্য মার্কেটের নয়, এই তথ্য আপনার নিজের।
একজন ট্রেডারের জার্নাল অনেকটা আয়নার মতো। আয়না আপনাকে বদলায় না, শুধু আপনি যেমন আছেন সেটি দেখিয়ে দেয়।
তাই ছয় মাস শেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি শুধু “আমি কত ডলার লাভ করেছি?” হওয়া উচিত নয়, বরং নিজেকে জিজ্ঞেস করুন,
“আমার সিদ্ধান্তগুলো কি ছয় মাস আগের তুলনায় এখন বেশি গোছানো, নিয়ন্ত্রিত এবং রিপিটেবল? উত্তর যদি হ্যাঁ হয় তাহলে আপনার ফাউন্ডেশন তৈরি হচ্ছে।
প্রথম ৬ মাস শেষে সফলতা দেখতে কেমন হতে পারে?হয়তো ছয় মাস পরও আপনি নিয়মিত মাসিক আয় করছেন না এবং সেটি অস্বাভাবিক কিছু নয়, বরং ছয় মাস আগের আপনার সঙ্গে আজকের আপনার পার্থক্য দেখুন, আগে একটি শেয়ার দ্রুত উঠতে দেখলেই হয়তো কিনতে ইচ্ছা করত, এখন আপনি আগে সেটআপ খোঁজেন, আগে লস দেখলে হয়তো স্টপলস সরিয়ে দিতেন, এখন ট্রেড নেওয়ার আগেই রিস্ক নির্ধারণ করেন, আগে পাঁচজনের পাঁচটি মতামত শুনে সিদ্ধান্ত বদলে ফেলতেন, এখন নিজের পরিকল্পনা ছাড়া ট্রেড নিতে অস্বস্তি হয়, আর আগে মার্কেট ওপেন মানেই মনে হতো কিছু একটা কিনতেই হবে, এখন হয়তো বুঝতে শুরু করেছেন, কিছু দিন কোনো ট্রেড না নেওয়াটাও একটি ভালো সিদ্ধান্ত হতে পারে।
এই পরিবর্তনগুলো আপনার ব্রোকারেজ হিসাবের ব্যালেন্সে সঙ্গে সঙ্গে দেখা নাও যেতে পারে, কিন্তু একজন ট্রেডারের ভবিষ্যতের ভিত্তি অনেক সময় এখানেই তৈরি হয়।
এত তথ্য বিনামূল্যে পাওয়া গেলে গোছানো শিক্ষা কেন প্রয়োজন? আজ ইন্টারনেটে ট্রেডিং সম্পর্কে তথ্যের কোনো অভাব নেই, সমস্যাটা বরং উল্টো, তথ্য এত বেশি যে নতুন একজন মানুষ প্রায়ই বুঝতে পারেন না, কোনটা আগে শিখবেন, কোনটা পরে এবং কোনটা এখন একেবারেই প্রয়োজন নেই।
ধরুন আপনি নিউইয়র্ক থেকে ক্যালিফোর্নিয়া যাবেন। আপনার কাছে আমেরিকার প্রতিটি রাস্তার নাম, প্রতিটি শহরের মানচিত্র এবং প্রতিটি হাইওয়ের তথ্য আছে, তথ্যের অভাব নেই, কিন্তু কোন পথে এগোবেন, সেই পরিষ্কার দিকনির্দেশনা না থাকলে যাত্রাটি অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ এবং ক্লান্তিকর হয়ে যেতে পারে।
ট্রেডিং শেখার ক্ষেত্রেও অনেক মানুষের সমস্যা ঠিক এখানে, তথ্য আছে কিন্তু পথটা গোছানো নয়, একটি ভালো ট্রেডিং শিক্ষার কাজ আপনাকে কোনো জাদুকরী সূত্র দেওয়া নয়, বরং মার্কেটের ভিত্তি বোঝা থেকে শুরু করে চার্ট পড়া, একটি সেটআপ তৈরি করা, রিস্ক কন্ট্রোল করা, নিজের মানসিক আচরণ বোঝা এবং ধীরে ধীরে একটি পুনরাবৃত্তিযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া তৈরির পথ দেখানো।
Mahmud Academy তে আমাদের লক্ষ্যও এই জায়গাটিতেই, আমরা এমন একজন ট্রেডার তৈরি করতে চাই না, যিনি প্রতিদিন কারও কাছে জানতে চাইবেন, “আজ কোন শেয়ার কিনব? বরং এমনভাবে শেখাতে চাই, যাতে একটি চার্টের সামনে বসে আপনি নিজেই বুঝতে পারেন কেন একটি ট্রেড নেওয়ার যুক্তি আছে, কোথায় সেই যুক্তি ভুল প্রমাণিত হবে এবং কতটুকু ঝুঁকি নেওয়া আপনার জন্য গ্রহণযোগ্য, কারণ অন্যের একটি ভালো ট্রেড হয়তো আপনাকে একদিন সাহায্য করবে, কিন্তু নিজে ভালো সিদ্ধান্ত নিতে শেখা আপনাকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে।